মাল নদীতে হড়পা‌বান, ভয়ঙ্কর স্রোতে ঝাঁপিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে হিরো মহম্মদ মানিক

বিবিপি নিউজ: ভেদাভেদ ভুলে বিপদের সময় পাশে দাঁড়িয়ে ফের যেন সম্প্রতির বার্তা দিলেন জলপাইগুড়ির মালবাজারের মহম্মদ মানিক। আর ভেদাভেদকারীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবছরই বিসর্জন দেখতে ওই জায়গায় যান মানিক। অত সমারোহ, উত্‍সব দেখতে ভাল লাগে তাঁর। এবারও গিয়েছিলেন। কিন্তু, চোখের নিমেষে চেনা আনন্দের ছবি আতঙ্কের ছবিতে পরিণত হয়েছিল। প্রাণহানি রুখতেই ওরকম ভয়ঙ্কর নদীতে কিছু না ভেবেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি।

হড়পা বানের উপচে পড়েছে মাল নদী। সেই জলের ধাক্কায় ভেসে যাচ্ছেন কতজন। দশমীর রাতে জলপাইগুড়িতে মালবাজারের ওই ভয়ঙ্কর ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল। হড়পা বান, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক- সব নিয়েই এখন তুমুল রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। মালবাজারের এই যুবকের জন্যই সেই দুর্যোগের রাতে প্রাণে বেঁচেছেন বেশ কয়েকজন।ৎমালবাজার ব্লকের পশ্চিম তেসিমলা গ্রামে বাড়ি মহম্মদ মানিকের। পেশায় গ্রিল, ওয়েল্ডিংয়ের কারিগর। বাড়িতে রয়েছেন বাবা, মা, ছোট ভাই ও বোন। বিয়ে করেছেন মানিক। এক শিশু সন্তানও রয়েছেন। একেবারে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত এই পরিবারের রোজগারের মূল দায়িত্ব মানিকেরই কাঁধে। এত পিছুটান, এত দায়িত্ব। কিন্তু সেই বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে কোনওরকম পিছুটানের কথা ভাবেননি তিনি।

প্রায় ১০ জনকে বাঁচাতে পেরেছিলেন মহম্মদ মানিক। কিন্তু তারপরে পায়ে চোট পান তিনি। সেই চোট নিয়ে ওরকম বানের মধ্যে আর কাউকে বাঁচানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। সেই নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। ছেলের জন্য গর্বিত বাবা আব্দুল খালেকও। তবে সেই আক্ষেপ রয়েছে তাঁর মনেও। পড়শিরা জানাচ্ছেন, মানিককে এলাকার সবাই পরোপকারী হিসেবেই চেনে। যেকোনও সময় কারও বিপদ হলে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। তাই মানিকের এই কাজে গর্বিত হলেও আশ্চর্য হচ্ছেন না গ্রামবাসীরা।

সূত্র: এবিপি আনন্দ