শতবর্ষের দোরগোড়ায় অশোকনগরের কালোবাড়ি অঞ্চলের সাহা বাড়ির দুর্গাপুজো

বিবিপি নিউজ, প্রদীপ ব্যানার্জি: অশোকনগরের বারোয়ারি দূর্গা পুজোগুলোতে ধীরে ধীরে লাগছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ক্লাবগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে থিমের পুজোর প্রতিযোগিতা। তবে বারোয়ারি পুজোর বাইরেও আরও এক রকম পুজো হয় অশোক নগরের বেশ কিছু বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালানে। এই সব বাড়ির পুজো কোনোটা শতবর্ষের দোরগোড়ায়, কোনোটা একশ বছরের পুরানো। কোনটা আবার দু-তিনশ, বছরেরও বেশি পুরানো। তবে এই সব বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওপার বাংলার অনেক ইতিহাস আর পরম্পরা। এখন হয়তো অনেক বাড়িতেই আগের মত সেই চোখ-ধাঁধানো জৌলুস নেই, ঠিকই। কিন্তু এই সব বাড়িতে পুজো হয় অতীতের পরম্পরা মেনে, নিষ্ঠা সহকারে। বাড়ির বেশির ভাগ সদস্যরা অন্যত্র থাকেন এমন কি বিদেশেও থাকেন। কিন্তু দূর্গা পুজো উপলক্ষ্যে সবাই এক সঙ্গে মিলিত হবার চেষ্ঠা করেন। এরকমই অশোক নগরের কালোবাড়ী অঞ্চলের সাহা বাড়ির দূর্গা পূজা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

এই বছর অশোক নগরের সাহা বাড়ির দূর্গা পূজা ৯৭তম বর্ষে পদার্পণ করবে। পরিবার সূত্রে জানা গেলো ১৯২৬ সালে তাদের পূর্ব পুরুষ ঈশ্বর সত্যেন্দ্রনাথ সাহার হাত ধরেই এই পরিবারের পুজো সূত্রপাত বাংলাদেশের পাবনা জেলার নাটাবাড়ি গ্রামের পৈতৃক ভিটেতে। অবশ্যই সহযোগিতায় ছিলেন তার দাদারা ঈশ্বর বিনোদলাল সাহা, ঈশ্বর জিতেন্দ্র নাথ সাহা এবং ঈশ্বর তরণী কান্ত সাহা। প্রথম দিকে সত্যেন্দ্র নাথ বাবু নিজেই প্রতিমা তৈরী করে পুজো করতেন। সেই সময় পুজোর জৌলুস ছিলো চোখে পড়ার মতো। পরবর্তী সময়ে দেশ ভাগের পর ভিটে মাটি ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে এপারে। তার পর কঠিন লড়াই সংগ্রামের পর আজ অশোকনগরের কালোবাড়ী অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত মধ্যবৃত্ত এই সাহা পরিবার।


এখন পুজোর দায়িত্ব সামলান মাননীয় বিশ্বেশ্বর সাহা মহাশয়, পেশায় স্কুল শিক্ষক। অবশ্যই তার কাকা, জ্যাঠাদের পরিবার এবং অন্যান্য আত্মীয় – স্বজনদের আর্থিক সহযোগিতায় বেশ ধুমধাম করেই উদযাপিত হয় পুজো।

বিশ্বেশ্বর বাবু জানালেন বাংলাদেশের পৈতৃক ভিটের নাটমন্দিরের মাটি এনেই বর্তমান এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন এতকিছুর মধ্যেও কোনোভাবেই মাতৃ বন্দনায় কোনো দিন ছেদ পড়েনি।

এই বাড়ির দূর্গা প্রতিমার বিশেষ বৈশিষ্ঠ হচ্ছে মা দুর্গার বাম পাশে গণেশের সাথে সরস্বতী থাকেন আর দক্ষিণ পাশে লক্ষ্মীর সাথে কার্তিকের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেলো
এক চালার দূর্গা প্রতিমায় মায়ের পুজো হয় কৃষ্ণ মতে সমস্ত নিয়ম নিষ্ঠা মেনে। এবং বেশ জাকজমক সহকারেই উদযাপিত হয় মাতৃ বন্দনা। লুচি আর পায়েস দিয়ে মায়ের বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। দূর্গা পূজার ঠিক একমাস আগে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীর দিনে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ।
আর মহালয়ার দিন চক্ষুদান করে মাতৃ প্রতিমার রঙ আর সাজ সজ্জার কাজ চলে।

সময়ের সাথে সাথে বহু কিছু পাল্টালেও আজও এই সাহা পরিবারের পুজোতে আচার নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই।

গত দুই বছর করোনার কারণে পুজোতে সেই রকম জৌলুস ছিলনা, তাই এই বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়াতে কচি-কাঁচাদের সাথে বাড়ির বড়রাও এখন থেকেই পুজোর আনন্দে মেতে উঠেছেন।