প্যান কার্ড নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, এই কাজ না করলে আপনার কার্ড বাতিল হবে

বিবিপি নিউজ: প্যান কার্ড নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিল আয়কর দফতর। 2023 সালের 31 মার্চের মধ্যে আধার ও প্যান কার্ড সংযুক্ত না করলে আপনার প্যান কার্ডের আর কোনও বৈধতা থাকবে না। অর্থাৎ, সেই কার্ড আপনি কোনও প্রয়োজনেই আর ব্যবহার করতে পারবেন না। সম্প্রতি আয়কর দফতর টুইট করে এমনটাই জানিয়েছে।

নতুন অর্থবর্ষ থেকেই দেশজুড়ে কদর ও গুরুত্ব বাড়তে চলেছে প্যান কার্ডের। ব্যবসাক্ষেত্রের যাবতীয় কাজকর্মে এবার শুধুমাত্র প্যান কার্ডকেই মান্যতা দিতে চলেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবার থেকে ব্যবসা সংক্রান্ত যে কোনও অনুমোদন, লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, আবেদনপত্র জমা দেওয়া, ব্যাঙ্ক ঋণ ইত্যাদি সব কাজেই প্রমাণপত্র হিসেবে একমাত্র প্যান কার্ড ব্যবহার করা হবে। কার্যত এবার থেকে ব্যাপক হারে গুরুত্ব বাড়তে চলেছে এই পরিচয়পত্রটির। সেই তুলনায় কিছুটা হলেও কদর কমতে চলেছে আধার কার্ডের।

2017 সালের 1 লা জুলাইয়ের আগে যাঁরা প্যান কার্ড পেয়েছেন এবং যাঁদের বৈধ আধার কার্ড রয়েছে, তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে 2022 সালের 31 মার্চের আগে প্যান ও আধার কার্ড লিঙ্ক করতে হবে। 2022 সালের 30 মার্চ সিবিডিটি-র তরফে জারি করা 370142/14/22-TPL নম্বর নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্যান ও আধার কার্ড লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। যে সমস্ত করদাতা তা করেননি, তাঁদের 500 টাকা জরিমানা দিতে হবে। আবার 2022 সালের 30 জুনের পরে যাঁরা প্যান এবং আধার কার্ড লিঙ্ক করেছেন, তাঁদের 1000 টাকা জরিমানা দিতে হবে।

বর্তমানে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ১৩টি পরিচয়পত্র রয়েছে যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য। এই ১৩টি পরিচয়পত্রের মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, সচিত্র ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, ইপিএফও, ইএসআইসি, জিএসটিএন, টিআইএন ও টিএএন। এগুলিকেই এখন বাণিজ্যিক পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত বছরই বাণিজ্য মন্ত্রক ইঙ্গিত দিয়েছিল ব্যবসা, শিল্প শুরু করার ক্ষেত্রে কিংবা নতুন কোনও ট্রেড লাইসেন্স পেতে একটিমাত্র নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা নিয়ে আসা হবে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। চালু হবে ন্যাশনাল সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম(NSWS) বা এনএসডব্লুএস। এই ব্যবস্থায় ছোট-বড় সব শিল্প ও ব্যবসার তথ্যাবলি নথিভুক্ত হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে তাতে।