সুরাহা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিবারের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান অশোকনগরে

বিবিপি নিউজ,প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: একটি চারা গাছ রোপণ করবার পর তার সঠিক যত্ন-আত্তি করতে পারলে একদিন নিশ্চয়ই প্রকৃতির উপকারে লাগবে। আর সেই চিন্তাভাবনা থেকেই সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করে চলেছে অশোকনগরের সুরাহা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিবার।

১২ই নভেম্বর শনিবার উত্তর ২৪পরগনা জেলার অশোকনগরর মিতালী সংঘ ক্লাব প্রাঙ্গণে এই সংগঠনের একটি বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। ছোট ছোট ফুলের মতো শিশুদের ছড়া, আবৃত্তি, গান আর নিত্য পরিবেশনে মনমুগ্ধকর হয়ে ওঠে পরিবেশ।

সমাজসেবী তথা এই সংগঠনের কর্ণধার সুস্মিতা চক্রবর্তী জানালেন এই সমস্ত পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, মানুষ করা তার সাথে সাথে স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতন করা এবং আলোর দিশায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। যাতে করে এরাই আবার আগামী দিনে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পাশে দাঁড়ায়। তিনি জানালেন বহু বছর ধরেই কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র নিপীড়িত পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করে চলেছেন। একবছর হলো অশোক নগরের কিছু অঞ্চলে তাদের কর্মযজ্ঞ চলছে।

তিনি বলেন সারা বছর ধরেই তাদের বিভিন্ন সামাজিক কার্যকলাপ চলে। তিনি আরো বলেন শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে এই সংস্থা বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। চারিদিকে দিন দিন বেড়ে চলার ডেঙ্গু সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আত্ম- সমালোচনার সুরে জানান ডেঙ্গু কে আমরা নিজেরাই আহ্বান করছি, এই বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন হওয়া উচিত। শুধুমাত্র প্রশাসন নয় ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এই সংগঠনকে উৎসাহ প্রদান করবার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন বঙ্গ সাহিত্য সম্মিলন এবং পূর্ব কলকাতা সাংস্কৃতিক সংস্থার সম্পাদক মাননীয় গোপাল চক্রবর্তী মহাশয়। তিনি সুস্মিতা চক্রবর্তীর এই কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসা করে জানালেন যেকোনো সাফল্যের পিছনেই প্রচেষ্টা দরকার এবং লড়াই দরকার লড়াই এবং সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই সফলতা আসে। তিনি বলেন আমরা যদি বর্তমান শিশুদের যথেষ্ট শিক্ষিত, স্বাবলম্বী এবং সংস্কৃতি প্রবন না করে তুলি তাহলে আগামী প্রজন্মের বাঙালিরা তাদের নিজেদের অতীত গৌরবময় ঐতিহ্যকে ভুলে যাবে। তাই এই সমস্ত পিছিয়ে পড়া শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে মানুষ করাই আমাদের লক্ষ্য, প্রত্যেকটি কাজের পিছনেই লড়াই করতে হয় লড়াই ছাড়া মানুষের জীবনে কোন মূল্য নেই।

তিনি গীতার শ্লোক উল্লেখ করে বলেন ভাগ্যকেও নিজের জন্য পরিশ্রম করতে হয়। শুধু মাত্র ভাগ্যের উপর নির্ভর করে না থেকে আমরা যদি প্রচেষ্টা চালাই তবেই আগামী দিনে সফলতা আসবে। আজকের দিনে যদি কোন কোন বীজ রোপন করা হয় তাহলে আগামী ২০-২৫ বছর পরে সে নিশ্চয়ই ফুল , ফল দেবে প্রকৃতিকেও সুন্দর করবে, জগত কে সুন্দর করবে এবং মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এবং তিনি জানান সুস্মিতার কাজে পাশে আছেন এবং আগামী দিনেও পাশে থাকবেন।

এর পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ,বাংলা ভাষার উন্নতির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন।তিনি বলেন পেশাগত কারণে ইংরেজি শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন তার সাথে সাথে মাতৃভাষা শেখাটাও অত্যন্ত জরুরী। যার মাতৃভাষা যত উৎকৃষ্ট হবে সে ততটাই ভালো করে অন্য ভাষা শিখতে পারবে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন এলাকার অনেক সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ। এলাকার মানুষজন সুরাহা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিবারের এই কর্ম প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন।