অশোকনগর পুরোহিত চেতনা কল্যাণ সমিতির পুরোহিত সম্মেলন

বিবিপি নিউজ, প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: সারাবছর যজমানি করে কাটাতে হয়, পৌরহিত্য কর্মই যাদের একমাত্র পেশা। পুজো পার্বণের দিনগুলোতে দিনরাত্রি এক করে কাটাতে হয় বিভিন্ন মণ্ডপে মন্ডপে। সেই সমস্ত পুরোহিতগণ বেছে নিলেন একটি দিন নিজেদের জন্য।

৬ই নভেম্বর রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর পুরোহিত চেতনা কল্যাণ সমিতির পরিচালনায় উদযাপিত হলো পুরোহিত সম্মেলন অশোকনগরে তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন পুরোহিতরা, তুলে ধরলেন তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কথা, মিলন উৎসবে পরিনত হলো আজকের দিনটি।
সকালে জাতীয় পতাকা, পুরোহিত সমিতির পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়েই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

তারপর নানারকম মঙ্গলাচরণের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয় সারাটা দিন। সমিতির সদস্য বিপ্লব চ্যাটার্জীর সুরেলা কন্ঠে “দেবী চণ্ডী” গীতি আলেখ্য আর নিতাই আচার্য মহাশয়ের কন্ঠে “শ্রীমদ্ভাগবত গীতা” পাঠ অনুষ্ঠানকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। এছাড়াও অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। সন্ধ্যায় এলাকার প্রায় শতাধিক দুস্থ নাগরিকদের শাড়ি এবং ধুতি বিতরণ করা হয় সমিতির পক্ষ থেকে। শেষ পর্যায়ে ভক্তি মুলক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার পৌর প্রধান মাননীয় প্রবোধ সরকার মহাশয় আগামী দিনে পুরোহিতের বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়ে পাশে থাকবার আশ্বাস দেন। এছাড়াও উপস্থিত হয়েছিলেন পৌরসভার সদস্যা শ্রীমতী কাজল রায় এবং কৃষ্ণা চক্রবর্তী মহাশয়া সহ সমাজের বিভিন্নস্তরের অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ।

এই অনুষ্ঠানে পুরোহিতেরা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কথা তুলে ধরলেন – উৎসব কমিটির সভাপতি দীপেশ চক্রবর্তী বলেন সমিতির ভগ্নদশা অফিস ঘরের মেরামতির জন্য যদি সরকারি অনুদান পাওয়া যায় তবে খুবই ভালো হয়।

সমিতির সভাপতি রঞ্জিত মুখার্জি বলেন পুরোহিতদের একমাত্র পেশা পৌরহিত্য, কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তাদের কোন আর্থিক সংস্থান না থাকায় খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়, সেই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিপাত করবার জন্য অনুরোধ করেন। এবং পুরোহিত ভাতার দাবি জানান। সমিতির অন্যতম সদস্য নিতাই আচার্য জানালেন পুরোহিতদের ঐক্যবদ্ধ করবার জন্য এই রকম সন্মেলনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

উৎসব কমিটির সম্পাদক শুভাশীষ চক্রবর্তী মহাশয় জানালেন আমাদের মত দরিদ্র ব্রাহ্মনদের পক্ষে নিজেদের পয়সা দিয়ে শাড়ি কিনে দেওয়া সম্ভব নয়, তাই আমরা পূজা অর্চনা করে যে শাড়ি- ধুতি পেয়ে থাকি সেখান থেকেই আমরা কিছু দুস্থ মানুষদের মধ্যে বিতরণের বন্দোবস্ত করেছি।

তিনি জানান সমিতি পক্ষ থেকে কিছুদিন পূর্বে গন উপনয়নের আয়োজন করা হয়েছিল।আগামী দিনে গনবিবাহের বিষয়ে পরিকল্পনা আছে। তিনি আরও জানান পৌরহিত্য শিক্ষার বিষয়েও সমিতি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে তুলবার জন্য যাদের অবদান অনস্বীকার্য তারা হলেন মাননীয় দিলীপ চক্রবর্তী, মিলন আচার্য্য, শুভাশীষ চক্রবর্তী, কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য, রাজা চক্রবর্তী, প্রদীপ ব্যানার্জী, নিতাই আচার্য্য, শৈলেশ্বর চক্রবর্তী, দীপেশ চক্রবর্তী, রঞ্জিত মুখার্জি সহ অন্যান্য পুরোহিতগন।

সমাজের দুস্থ মানুষদের কথা চিন্তা করে পুরোহিত সমিতির এরূপ কার্যকলাপ সত্যিই প্রশংসনীয়।