অশোকনগর কল্যাণগড়ের কয়াডাঙা নট্ট কলোনির জগদ্ধাত্রী পূজা আজ ও অনবদ্য

বিবিপি নিউজ,প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ২ রা নভেম্বর মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে গেছে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভা অঞ্চলের কল্যাণগড়ের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজো।
বর্নময় আলোর রোশনায় সেজে উঠেছে সমস্ত অঞ্চল। আর এর সাথে সাথেই রয়েছে চোখ ধাঁধানো সব মণ্ডপ সজ্জা। এছাড়াও রয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যেই ধামসা,মাদল নিয়ে নৃত্য বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের কাছে।

প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে। তবে কল্যাণগড়ের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রসঙ্গ আসলেই প্রথমেই আসে এই অঞ্চলের সর্ব প্রাচীন পুজো কয়াডাঙা নট্ট কলোনির (কে এন সি) জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা। ৪২ তম বর্ষে পদার্পণ করলো এই বছর।

এই পুজো সম্পর্কে ক্লাবের সদস্য প্রবীর চক্রবর্ত্তী মহাশয় জানালেন, এই নট্ট কলোনিতে মূলত গায়ক, বাদ্যকার এবং অনেক শিল্পীদের বাসস্থান। এই অঞ্চল থেকে অনেক নামি দামী শিল্পী তৈরি হয়েছেন। বিশেষ করে বাদ্যকারদের পিঠ স্থান বলা যেতে পারে এই অঞ্চলটিকে।

কিন্তু তারা সবাই দূর্গা পুজো, কালী পুজো সহ অন্যান্য পুজোর সময় পেশাগত কারণেই বাড়িতে থাকতে পারতেন না। সারা বছর অন্যদের আনন্দ দিয়ে বেড়াতেন। তাই নিজেদের জন্য এই এলাকাতে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন করেন। এনাদের মধ্যে পরিতোষ নট্ট, তারক নট্ট, মানব নন্দী, রাজ বল্লভ কর্মকার এছাড়াও আরো অনেকেই এই পুজোর উদ্যোক্তা ছিলেন।

তাদের সেই ধারা অব্যাহত রেখেই এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রজন্মের নাগরিকেরা। অতীতের সেই পরম্পরা মেনেই “কে এন সি” র জগদ্ধাত্রী পুজো সাবেকিয়ানায় আজও অনবদ্য।

কল্যাণগড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে হয়তো অনেক বড় বড় প্যান্ডেল থিম হয়। কিন্তু একটা বিরাট অংশের দর্শনার্থীদের কাছে কয়াডাঙ্গা নট্ট কলোনির পুজো না দেখলে ঠাকুর দেখাই মনে হয় যেনো সম্পূর্ন হয় না।
এই বছর “কে এন সি” র থিম “অ্যামাজন”। আদিবাসী দের জীবন ধারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্ঠা হয়েছে। নজর কাড়া মন্ডপ সজ্জার পাশাপাশি সুন্দর আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মন্ডপের পরিবেশ নিয়ে এক কথায় দর্শনার্থীরা ভীষণ খুশি।